পোস্টগুলি

তোমার জন্য রজনীগন্ধা দিন

ছবি
রোজ, তোমার জন্য রোজ রোজ স্বপ্ন বুনি  তোমার জন্য দুঃখভোগ তোমার জন্য এনে দেবো রজনীগন্ধা দিন নির্জন মধ্যরাতে কবিতার শহরজুড়ে পায়চারি করবে একজন কবি বাড়ি ফিরবে দুঃস্বপ্নের ঝুলি নিয়ে তুমি একটা বাড়ির শোকে কাঁদবে কবিরে পাবে না তোমার বিলাস-বৈভবে কাড়ি কাড়ি টাকার বদলে পাবে রজনীগন্ধার ক্ষেত ফার্স্টফুডের বদলে গুচ্ছ গুচ্ছ কবিতা বিষণ্ণ বকুল হাতে নিয়ে চলে যাবে দুঃখিত কবি তুমি হা-পিত্যেশ করবে তোমার সন্তান বেড়ে উঠবে পিয়েটার সংসারে রোজ, তুমি বরং রজনীগন্ধা ভালোবাসতে শেখো তোমার জন্য এনে দেবো রজনীগন্ধা দিন তারিখঃ ১ নভেম্বর, ২০১৮ ইং

অবিনাশী উত্থানঃ নূরুল ইসলাম

ছবি
কবি নূরুল ইসলামের  ' অবিনাশী উত্থান '  কবিতায় রূপাঙ্গিক ,  অবয়ব নির্মাণ ,  চিত্রকল্প ও বিষয় বিন্যাসে তীর্যক বাণীভঙ্গি ,  দর্শন-পুরাণ-ইতিহাস-বিজ্ঞান   ও অচেনা ঐতিহ্য থেকে উপমা-উৎপ্রেক্ষা-প্রতীক ও রূপক গ্রহনের সচেতন প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়। তিনি পুরাণের অবিস্মরণীয় উৎস উৎসারিত রূপক-চেতনা দ্বারা সমকালীন যুগমানসের জটিল অভীপ্সার দ্বারোদ্ঘাটন করতে মিথপ্রতীকের সাহায্য  নি য়েছেন। আধুনিক বা উত্তরাধুনিক কবিতায় বিপুল অর্থদ্যোতকতা ও ব্যঞ্জনা সৃষ্টিতে মিথ বা পুরাণ সাফল্যের সিঁড়ি হিসেবেই স্বীকৃত।   স্টিফেন হকিংস এর বিগ ব্যাং থিওরি তত্ত্ব থেকে আমরা পৃথিবী সৃষ্টির ধারণা পাই। একটা সময় ছিল যখন পৃথিবীতে কবিতার অস্তিত্ব ছিল না। চর্যাপদ থেকে বাংলা সাহিত্যের সূচনা। চর্যাপদ কিংবা গিলগামেশের আগে বাংলায় কোন সাহিত্য রচিত হয়েছিল কিনা সেটার অস্তিত্ব সম্পর্কে আমরা ওয়াকিবহাল নই। একটা সময় সাহিত্যের অস্তিত্ব কতটুকু থাকবে সেটাও বলা মুশকিল। আবেগ ,  অনুভূতিকে ঘিরে কবিতার সৃষ্টি। সেই আবেগের জলাঞ্জলি হচ্ছে বিজ্ঞানের বিকাশের সাথে সাথে। মানুষ প্রতিনিয়ত বিজ্ঞা...

চলো হারিয়ে যাইঃ অপরাজিতা

ছবি
কবিদের কোন শিক্ষক নেই। কবিরা পড়তে পড়তে লিখতে লিখতে শেখে। প্রকৃতি কবিদের সবচেয়ে বড় শিক্ষক। প্রকৃতি ও পরিবেশ থেকে কবিরা শিক্ষা নিয়ে চেতনাবোধের জগতকে আলোকিত করে। তাই একজন কবি কতটুকু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত তার উপর নির্ভর করে না তাঁর কবিত্ব শক্তি ও কবিতার নির্মাণ। তাই একজন কবির চেতনে কিংবা অবচেতনে তাঁর কবিতা হয়ে ওঠে ব্যাকরণ শুদ্ধ ও সমৃদ্ধ। কবি অপরাজিতা তাঁর ' চলো হারিয়ে যাই ' কবিতাটি মূলত প্রেমকে উপজীব্য করে লিখেছেন। কিন্তু সেই প্রেমের গতায়ন কখনো ব্যক্তিগত , কখনো সামগ্রিক। এক জীবনের প্রেমকে তিনি অতীত , বর্তমান ও ভবিষ্যতের মধ্য দিয়ে অনুভব করেছেন। সহজ সরল সাবলীল ভাষায় প্রাণবন্ত এই কবিতা। একটি কবিতা তখনই সার্থক হয়ে ওঠে যখন সেই কবিতায় পাঠক নিজেরই স্বচ্ছ আদল আবিষ্কার করেন। কবিতার বাঙময় শব্দেরা তার একান্ত একার মনে হয়। তার অনুভূতির সাথে মিলে যায় কবিতার যাবতীয় পাওয়া , না পাওয়া , প্রেম , বিরহ , মিলন , হাসি , কান্নার একান্ত অনুভব। কবিতাটি পড়ে আমারও মনে হয়েছে- এ যেন আমারই লেখা কবিতা। আর দীপালী ঘোষ যেন আমারই প্রেমিকা। প্রত্যেক পুরুষেরই একজন দীপালি ঘোষ থাকে এবং...

অ্যাক্ট অফ ভ্যালর এবং সুমিত চক্রবর্তী

ছবি
                                             সুমিত চক্রবর্তী          সুমিত চক্রবর্তী। বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী একজন সৃজনশীল ব্যক্তিত্ব। তিনি একাধারে একজন কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও বিদগ্ধ সমালোচক। কবি সুমিত চক্রবর্তীর জন্ম মাদারিপুর জেলার শিবচর থানার গুয়াতলা গ্রামে। তাঁর পড়াশোনা ইংরেজি সাহিত্যে।  সুমিত চক্রবর্তী কর্মজীবনের পাশাপাশি   একটি আন্তর্জাতিক পত্রিকায় সাহিত্য ও সমসাময়িক চিন্তা বিষয়ক অতিথি লেখক হিসেবে কর্মরত। এছাড়া SWAF নামে একটি সমাজসেবামূলক সংস্থা যা কিনা গরীর শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহনে অর্থনৈতিক ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করে তার প্রধান শিক্ষা সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন। তিনি সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের নিয়ে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠান 'Smile Creator-মানবতার পাশে' এর উপদেষ্টা নিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।  তিনি বর্তমানে রিসার্চ করছেন existentialism (অস্তিত্ববাদ) এর উপর। তাঁর সহযোগী  হিরোইউকি সানাডার।  ‘অস্তিত্ববাদ’...

বোধিসত্ত্ব

ছবি
                                                                   উৎসর্গঃ শ্রদ্ধাস্পদেষু প্রীতিভাজনেষু মরমি সাধক জহির অচিনপুরী ভাইকে। কবিতাপুর কতদূর?  কোথায় চৈতন্যবৃক্ষ ?   সৃষ্টির সকল আঁধার এবং নিস্তব্ধতা কি আশ্চর্য! বিচরণশীল একটি পাখির মত সমস্ত জেনিন আমার বুক জুড়ে হিমাংকের তুষারের চাঁই কসম এই হেবরণের কসম আগুনঝরা আকাশগ্রন্থির আর কসম সিনাই পাহাড় সাক্ষী থাকো হে মুহাম্মদ   সাক্ষী থাক তোমার কোরআন সাক্ষী থাকো হে মুসা সাক্ষী থাক তোমার তাওরাত সাক্ষী থাকো হে দাউদ সাক্ষী থাক তোমার যবুর সাক্ষী থাকো হে ঈসা সাক্ষী থাক তোমার ইনযিল   সাক্ষী থাকো হে নীল লোহিত সাগর সাক্ষী থাকো নূহের তাজল্লিতে দগ্ধ কোহেতুর সাক্ষী থাকো আমার প্রিয় শান্তির স্বদেশ জেনে নাও বিশ্বের সকল মানুষ সেদিন দূরে নয় আমার রক্ত ও কাফনহীন লাশ একদিন জেগে উঠবে পুনরুত্থান দিবসের মতো তোমরা যাকে কাঁধে করে নিয়ে যাচ্ছো ...

কুসুম কুসুম স্বপ্ন

ছবি
  উৎসর্গ-সকল শহীদ ও জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি। আমারও স্বপ্ন ছিল মাঠ ভরা সোনার ফসল আর গোলা ভরা ধান হবে হায়! সোনার ফসলগুলো বর্গীরা সব জ্বালিয়ে পুড়িয়ে অঙ্গার করেছে আমারও স্বপ্ন ছিল বউ , ছেলে-মেয়ে নিয়ে সুখের সংসার হবে অথচ সং সাজাই সার হলো সুখ এলো না জীবনে   সংসার গেলো বেনো জলে ভেসে আমারও স্বপ্ন ছিল বেদী ঘেরা তুলসীর তলায়   দেবীর হাতে রবে ইচ্ছের নৈবেদ্য   সুনসান রোদেলা উঠোন জুড়ে নাড়া রবে পৌষালি অন্নপূর্ণা অথচ দেবীরা সব হা-ভাতের ঘরে কানামাছি খেলে কানামাছি আমারও স্বপ্ন ছিল বুক ভরে শ্বাস নেবো বটের ছায়ায় বসে গাইবো ভাটিয়ালি কিংবা রাখালিয়া গান   অথচ কোথাও বটের ছায়া নেই নিঃশ্বাসে কুড়াই বিষ বাষ্প আমারও স্বপ্ন ছিল দেশটা একদিন স্বাধীন হবে মুক্তি পাবে দেশের মানুষ দেশটা স্বাধীন হয়েছে! অথচ কোথাও স্বাধীনতা নেই স্বাধীনতা , স্বাধীনতা বলে চিৎকার করতে করতে আকাশ- পাতাল চৌচির করে মাতাল হয়ে যাই অথচ আজও আমরা ভীষণ পরাধীন যখন দেখি এসিডে দগ্ধ আমার বোন যখন দেখি আমার ভাই রাজপথে লাশ হয়ে পড়ে আছে যখন দেখি আমার বাবা অধিকার বঞ্চিত   যখন দেখি আমার ...

কলাবৌ

ছবি
  এখন আমার মাঝরাতে কলাবৌ দেখতে ইচ্ছে করে   কলাবৌ! বড় স্পর্শকাতর এই নাম উচ্চারণমাত্র বুকের ভেতর হু হু করে ওঠে   একদিন দীপালী ঘোষ কলাবৌ সেজে আমাকে বলেছিল- ' এবার পূজায় ঢাকায় শাড়ি না দিলে ,   মা দূর্গার সাথে আমিও ঝাপ দেবো জলে ' মধ্যরাতে বাতাস ভারী করে ডুকরে ওঠে একলা পাখি   নিস্তব্ধ হয়ে যায় সমস্ত চরাচর নিস্তরঙ্গ নদীর ঢেউ   চারদিকে টের পাই অশ্রুত গান্ধারে   ভেসে আসছে বেঠোফেনের দুঃখিত সুর   আকাশে-বাতাসে স্মৃতির পোড়া গন্ধ   বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে ওঠে চাপা কান্না দীপালীর মুখ বিস্মৃত গাঙচিল   চোখের জলে ভিজে যায় চোখ   জোছনায় ভেজা মাতাল রাত   দূরের শ্মশান , কবিতার শব্দাবলি! তারিখঃ ২০-১২-২০১৬ খ্রি. , রাত- ৯ টা , খাঁচা।