পোস্টগুলি

মার্চ, ২০১৭ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

অ্যাক্ট অফ ভ্যালর এবং সুমিত চক্রবর্তী

ছবি
                                             সুমিত চক্রবর্তী          সুমিত চক্রবর্তী। বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী একজন সৃজনশীল ব্যক্তিত্ব। তিনি একাধারে একজন কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও বিদগ্ধ সমালোচক। কবি সুমিত চক্রবর্তীর জন্ম মাদারিপুর জেলার শিবচর থানার গুয়াতলা গ্রামে। তাঁর পড়াশোনা ইংরেজি সাহিত্যে।  সুমিত চক্রবর্তী কর্মজীবনের পাশাপাশি   একটি আন্তর্জাতিক পত্রিকায় সাহিত্য ও সমসাময়িক চিন্তা বিষয়ক অতিথি লেখক হিসেবে কর্মরত। এছাড়া SWAF নামে একটি সমাজসেবামূলক সংস্থা যা কিনা গরীর শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহনে অর্থনৈতিক ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করে তার প্রধান শিক্ষা সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন। তিনি সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের নিয়ে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠান 'Smile Creator-মানবতার পাশে' এর উপদেষ্টা নিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।  তিনি বর্তমানে রিসার্চ করছেন existentialism (অস্তিত্ববাদ) এর উপর। তাঁর সহযোগী  হিরোইউকি সানাডার।  ‘অস্তিত্ববাদ’...

বোধিসত্ত্ব

ছবি
                                                                   উৎসর্গঃ শ্রদ্ধাস্পদেষু প্রীতিভাজনেষু মরমি সাধক জহির অচিনপুরী ভাইকে। কবিতাপুর কতদূর?  কোথায় চৈতন্যবৃক্ষ ?   সৃষ্টির সকল আঁধার এবং নিস্তব্ধতা কি আশ্চর্য! বিচরণশীল একটি পাখির মত সমস্ত জেনিন আমার বুক জুড়ে হিমাংকের তুষারের চাঁই কসম এই হেবরণের কসম আগুনঝরা আকাশগ্রন্থির আর কসম সিনাই পাহাড় সাক্ষী থাকো হে মুহাম্মদ   সাক্ষী থাক তোমার কোরআন সাক্ষী থাকো হে মুসা সাক্ষী থাক তোমার তাওরাত সাক্ষী থাকো হে দাউদ সাক্ষী থাক তোমার যবুর সাক্ষী থাকো হে ঈসা সাক্ষী থাক তোমার ইনযিল   সাক্ষী থাকো হে নীল লোহিত সাগর সাক্ষী থাকো নূহের তাজল্লিতে দগ্ধ কোহেতুর সাক্ষী থাকো আমার প্রিয় শান্তির স্বদেশ জেনে নাও বিশ্বের সকল মানুষ সেদিন দূরে নয় আমার রক্ত ও কাফনহীন লাশ একদিন জেগে উঠবে পুনরুত্থান দিবসের মতো তোমরা যাকে কাঁধে করে নিয়ে যাচ্ছো ...

কুসুম কুসুম স্বপ্ন

ছবি
  উৎসর্গ-সকল শহীদ ও জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি। আমারও স্বপ্ন ছিল মাঠ ভরা সোনার ফসল আর গোলা ভরা ধান হবে হায়! সোনার ফসলগুলো বর্গীরা সব জ্বালিয়ে পুড়িয়ে অঙ্গার করেছে আমারও স্বপ্ন ছিল বউ , ছেলে-মেয়ে নিয়ে সুখের সংসার হবে অথচ সং সাজাই সার হলো সুখ এলো না জীবনে   সংসার গেলো বেনো জলে ভেসে আমারও স্বপ্ন ছিল বেদী ঘেরা তুলসীর তলায়   দেবীর হাতে রবে ইচ্ছের নৈবেদ্য   সুনসান রোদেলা উঠোন জুড়ে নাড়া রবে পৌষালি অন্নপূর্ণা অথচ দেবীরা সব হা-ভাতের ঘরে কানামাছি খেলে কানামাছি আমারও স্বপ্ন ছিল বুক ভরে শ্বাস নেবো বটের ছায়ায় বসে গাইবো ভাটিয়ালি কিংবা রাখালিয়া গান   অথচ কোথাও বটের ছায়া নেই নিঃশ্বাসে কুড়াই বিষ বাষ্প আমারও স্বপ্ন ছিল দেশটা একদিন স্বাধীন হবে মুক্তি পাবে দেশের মানুষ দেশটা স্বাধীন হয়েছে! অথচ কোথাও স্বাধীনতা নেই স্বাধীনতা , স্বাধীনতা বলে চিৎকার করতে করতে আকাশ- পাতাল চৌচির করে মাতাল হয়ে যাই অথচ আজও আমরা ভীষণ পরাধীন যখন দেখি এসিডে দগ্ধ আমার বোন যখন দেখি আমার ভাই রাজপথে লাশ হয়ে পড়ে আছে যখন দেখি আমার বাবা অধিকার বঞ্চিত   যখন দেখি আমার ...

কলাবৌ

ছবি
  এখন আমার মাঝরাতে কলাবৌ দেখতে ইচ্ছে করে   কলাবৌ! বড় স্পর্শকাতর এই নাম উচ্চারণমাত্র বুকের ভেতর হু হু করে ওঠে   একদিন দীপালী ঘোষ কলাবৌ সেজে আমাকে বলেছিল- ' এবার পূজায় ঢাকায় শাড়ি না দিলে ,   মা দূর্গার সাথে আমিও ঝাপ দেবো জলে ' মধ্যরাতে বাতাস ভারী করে ডুকরে ওঠে একলা পাখি   নিস্তব্ধ হয়ে যায় সমস্ত চরাচর নিস্তরঙ্গ নদীর ঢেউ   চারদিকে টের পাই অশ্রুত গান্ধারে   ভেসে আসছে বেঠোফেনের দুঃখিত সুর   আকাশে-বাতাসে স্মৃতির পোড়া গন্ধ   বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে ওঠে চাপা কান্না দীপালীর মুখ বিস্মৃত গাঙচিল   চোখের জলে ভিজে যায় চোখ   জোছনায় ভেজা মাতাল রাত   দূরের শ্মশান , কবিতার শব্দাবলি! তারিখঃ ২০-১২-২০১৬ খ্রি. , রাত- ৯ টা , খাঁচা।

ফ্যান্টাসি

ছবি
শিশির সঙ্গমে যদি তোমার মৃত্যু হয় ভয় নেই প্রিয়তমা! তোমার জান্তব-চূর্ণ দিয়ে   তোমাকে আমি বাঁচিয়ে তুলবো   আমার জান্তব-চূর্ণ দিয়ে তুমি... জান্তব-চূর্ণ ব্যাপারটা বিদিক খেলা!   মানুষের জান্তব-চূর্ণ দিয়ে কাউকে জীবিত করা যায় কী ?   যদি সত্যিই যেতো তবে মানুষের অভিধানে আস্তিক-নাস্তিক বলে কোন শব্দ থাকতো না জাতিস্মরের চোখে ঈশ্বর মৃত! এই সব ফ্যান্টাসি বড় ভালো লাগে   স্বপ্নের সানুদেশে এসে সভ্যতার বয়স বাড়ে   জাতিস্মর হয়ে ওঠে অশরীরী থেকে শরীরী। তোমরা দীপালীরা জাতিস্মরে বিশ্বাস করো     বিশ্বাস করো জাগতিক ঈশ্বরে   ভয় পেলে ভগবানে।   আমি পুনরুত্থানবাদী   নিরবধি সয়ে যাবো কাফের কষ্ট   তবু সাধের গোলায় তুলে নেবো সোনালি শস্যের বিস্তারিত ক্ষেত   আখেরে বুঝে নিতে ব্যক্তিগত ঘরবাড়ি! তারিখঃ ২২-১২-২০১৬ খ্রি.

বুক পকেটে জোনাকি

ছবি
                          উৎসর্গ-শ্রদ্ধাস্পদেষু অভিন্ন হৃদয়েষু কবি মাতুব্বর ভাইকে। এমন অনেক দিন গেছে মাঝরাতে বাড়ি ফিরছি কোথাও কেউ নেই চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার বুক পকেটে জোনাকি   বাড়ি ফিরেই পকেট থেকে জোনাকিগুলো মুক্ত করে পরমানন্দে আমি যেন বিবেকানন্দ কী আশ্চর্য! একজন ম্যাজিশিয়ান কি অপূর্ব ম্যাজিক দেখাচ্ছেন আমিও অবিকল অভিনেতার মত শিখছি জীবনের ধারাপাত আমার করতলে পাঁচটি জোনাকি একটি আমার মা , একটি দেশ , আর একটি তুমি আর দুটি তারার দেশে ভিড় জমায় ওরা আমার দুই সহোদরী   ওরাই আমার দীর্ঘশ্বাস ওদের জন্য আমি এখন রাত জোনাকি ফেরিঅলা এখন আমার বুক পকেটে বুকের ব্যথা জোনাকিগুলো যে যার মত ধ্রুবতারা চার অক্ষর নির্বিকার।

বেনেবউ

ছবি
হৃদয়ের পাড় ভাঙে অবিরাম   এক হৃদয় ভাঙে অন্য হৃদয় গড়ে   বেনেবউ গেয়ে ওঠে গান মিলনের আহ্বানে প্রজনন ক্ষণে   বিরান বুকের ডহরে ডাকে পানকৌড়ি প্রেম   তোমার আমার!

গোলকধাঁধা

ছবি
উৎসর্গঃ আমার কবিতার প্রথম পাঠক , যার কাছে আমার শুদ্ধতার প্রথম পাঠ , আমার ওস্তাদজী এবং অভিভাবকপ্রতিম বন্ধু হাফেজ মাওলানা জাকির হুসাইনকে। অতঃপর আমাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে নেওয়া হল গুপ্ত ঘরে এক এক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হল আমার আদ্যোপান্ত আমার কৃতকর্মের এপিঠ ওপিঠ মুহূর্তেই মনে হল মুনকার নাকির আমাকে প্রশ্ন করছে গুপ্ত ঘর যেন ঠিক গুপ্ত ঘর নয় একটা অন্ধকার কবর আমি কোন অপরাধ করেছি কিনা ঠিক বলতে পারিনি আসলে আমি কোন অপরাধ করেছি কিনা জানিনা যদিও পাপ করেছি অগণিত... ইউনিফর্ম পরা দুজন লোক আমার কোন কথাই বিশ্বাস করলেন না তারা আমার সমস্ত অপরাধের খেরোখাতা সামনে তুলে ধরলেন   আমি হতবাক!   একজন সাক্ষী তার জবাববন্দীতে আমার সমস্ত কৃতকর্মের সাক্ষী দিয়েছে জানলাম , সে আর কেউ নয় আমার প্রেমিকা বুঝলাম , আজকাল পৃথিবীর কোন প্রেমিকাই বিশ্বাসযোগ্য নয় হয়তো কোন প্রেমিকও আসলেই কোন মানুষই আজ আর বিশ্বাসযোগ্য নেই বস্তুত , মানুষ এবং বিশ্বাস শব্দ দুটি অভিধানেই মানায়! আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হল আমাকে রাখা হবে বিশেষ নজরদারীতে   মনে মনে বললাম , হে আল্লাহ্‌! আমার কোন দোষ ন...

নক্ষত্রের গল্প

ছবি
                                    উৎসর্গঃ বন্ধুবরেষু প্রিতম গোর্কিকে। দশ দিগন্ত পাড়ি দিয়ে উদভ্রান্তের মত আমরা তিন বন্ধু রোজ হাজির হতাম পাহাড় কেটে তৈরি করা আকাশবাড়ির একটা টং চায়ের দোকানে কমলেশ বাগচী এবং যতীন দস্তিদার আমার চেয়ে বয়সে বড় আমাদের চা কাপে থাকতেই নিমিষে বয়েস বেড়ে যেত নক্ষত্রের   কার্ল মার্কস , লেলিন , চে গুয়েভারা , মাও সে তুং , মাস্টার দা , প্রীতিলতা ওয়াদেদ্দার   দিন দিন আমাদের সমগোত্রের হতে লাগলো কমলেশ বাগচী রোজ চায়ের সাথে রাজনীতির মাথা চিবিয়ে খেতো যতীন দস্তিদার সিগারেটের ধুঁয়া তুলে গম্ভীর হয়ে   সেদিন আমাকে বলেছিল , জানিস , আরতি মাসীর একমাত্র মেয়েটা  বিনা চিকিৎসায় মারা গেলো! আমি খবর পেয়ে ছুটে যাই আরতি মাসি আমার দিকে   অবাক নির্লিপ্ত চোখে নির্বিকার চেয়ে ছিল   এরকম নির্লিপ্ত চোখ আমি কোনদিন কারো দেখিনি! মানুষের অধিকারের কথা বলতো যতীন দস্তিদার   এইতো সেদিন সন্ধ্যার মুখে বাড়ি ফিরছিল যতীন রথতলার মোড়ে আসতেই ...

আকাশচুরি

ছবি
উৎসর্গ- সুনীতি দেবনাথ দিদিকে। দুঃখ দিয়ে যাদের জীবন গড়া তাদের আবার দুঃখ কিসের ? গরীব মানুষের কোন দুঃখ থাকতে নেই। একটা তেজপাতা রঙ দীর্ঘশ্বাস শুধু ক্রমশ ঝাপসা হয়ে আসে। বাক্সবন্দী চাওয়া পাওয়াগুলো মিলিয়ে যায় আদিম ধ্যানস্থ অন্ধকারে। বেদী ঘেরা তুলসীর তলায় অন্নপূর্ণা মা আমার নিঃসঙ্গ অশ্রুপাত করে। আমার চোখ ভারী হয়ে আসে। মায়ের আঁচল জড়িয়ে আমার অবুঝ কৌতূহলী মন মাকড়সার মত অসংখ্য প্রশ্নের জাল বোনে। এই ভাবে আমার কৌতূহলী মন পাঁচ বসন্তের গোধূলি পেরোয় , দিনান্তের দিকচিহ্নহীন বাহান্ন তীর্থের মত। এক ঝড়ের রাত ওলট পালট করে দেয় আমাদের অস্তিত্বের ভূভাগ। অনেক রাত অব্দি বাবা বাড়িতে ফেরেনি। মাকে খুব উৎকণ্ঠিত দেখলাম। মা বারবার ঘরের ভেতর পাইচারি করছে। একবার ঘড়ি দেখছে , একবার বাড়ির গেটের দিকে তাকাচ্ছে। অনেক রাতে বাবা ভেজা শরীরে হাঁপাতে হাঁপাতে বাড়ি এলো। বাবাকে দেখে মা হাউমাউ করে কেঁদে উঠল। মায়ের দেখাদেখি আমিও কাঁদতে লাগলাম। মা কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠলো , “ ওগো , তোমার কি হয়েছে ? তুমি ঠিক আছো তো ”? বাবা ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বললেন , “ খুকুর মা , সব কিছু গুছিয়ে নাও। এখানে আর থাকা নিরাপদ নয়। আজ মরতে মরতে বেঁচেছি ” ...

মাস্টারদা, তোমাকে বলছি

ছবি
মাস্টারদা , আজ তোমার মৃত্যুবার্ষিকী তোমাকে বড় বেশি মনে পড়ছে তোমার শেষ বাণী-আদর্শ ও একতা। শব্দ দুটি এখন ভীষণ হাস্যকর লাগে এ দেশে আদর্শ বলে কিছু নেই একতা আছে শুধু মন্দ কাজে আজ জাতিতে জাতিতে ধর্মে বর্ণে   শুধু দ্বন্দ্ব আর ধন্দ যুদ্ধংদেহী মনোভাব সর্বত্র। আমার ছেলেবেলায় যখন আরতি মাসী স্নান সেরে নাক কুচকে পা টিপে টিপে সন্তর্পণে বাড়ি যেতেন আমি দুষ্টুমি করে তখন মাসীকে ছুঁয়ে দিতাম মাসী বলতেন , হায়! ভগবান। আমাকে অপবিত্র করে দিল!   মাসী আবার পবিত্র হতে স্নান করতেন মুসলমানে ছুঁলে নাকি জাত যায় সেই মাসীর মৃত্যুর সময় তার পাশে কেউ ছিল না আমরাই মাসীর মুখে জল দিয়েছি মরার সময়   মাসী শুধু অঝোরে কেঁদেছেন নির্লিপ্ত নয়নে। এদেশে এখনও কালো মেয়ে বাবা-মায়ের সংসারে বোঝা বড়সড় কিছু যৌতুক না দিলে তাকে পার করা কষ্ট দেশে শিক্ষার হার বাড়ছে ঠিকই অথচ দেশটা দিনদিন মেধাশূন্য হয়ে পড়ছে পরীক্ষার আগের রাতেই প্রশ্ন ফাঁস হয়ে যায় এদেশে ঘুষ না দিলে চাকরি পাওয়া দায়। ছকিনার স্বামী গত হয়েছে দু ' বছর হলো দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে বড় অসহায়! হাড়িতে চালের বদলে জ্বাল দেয় জল উনুনের ধোঁয়া দেখে কান...