অবিনাশী উত্থানঃ নূরুল ইসলাম
কবি নূরুল ইসলামের 'অবিনাশী উত্থান' কবিতায় রূপাঙ্গিক, অবয়ব নির্মাণ, চিত্রকল্প ও বিষয় বিন্যাসে তীর্যক বাণীভঙ্গি, দর্শন-পুরাণ-ইতিহাস-বিজ্ঞান ও অচেনা ঐতিহ্য থেকে উপমা-উৎপ্রেক্ষা-প্রতীক ও রূপক গ্রহনের সচেতন প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়। তিনি পুরাণের অবিস্মরণীয় উৎস উৎসারিত রূপক-চেতনা দ্বারা সমকালীন যুগমানসের জটিল অভীপ্সার দ্বারোদ্ঘাটন করতে মিথপ্রতীকের সাহায্য নিয়েছেন। আধুনিক বা উত্তরাধুনিক কবিতায় বিপুল অর্থদ্যোতকতা ও ব্যঞ্জনা সৃষ্টিতে মিথ বা পুরাণ সাফল্যের সিঁড়ি হিসেবেই স্বীকৃত।
স্টিফেন হকিংস এর বিগ ব্যাং থিওরি তত্ত্ব থেকে আমরা পৃথিবী সৃষ্টির ধারণা পাই। একটা সময় ছিল যখন পৃথিবীতে কবিতার অস্তিত্ব ছিল না। চর্যাপদ থেকে বাংলা সাহিত্যের সূচনা। চর্যাপদ কিংবা গিলগামেশের আগে বাংলায় কোন সাহিত্য রচিত হয়েছিল কিনা সেটার অস্তিত্ব সম্পর্কে আমরা ওয়াকিবহাল নই। একটা সময় সাহিত্যের অস্তিত্ব কতটুকু থাকবে সেটাও বলা মুশকিল। আবেগ, অনুভূতিকে ঘিরে কবিতার সৃষ্টি। সেই আবেগের জলাঞ্জলি হচ্ছে বিজ্ঞানের বিকাশের সাথে সাথে। মানুষ প্রতিনিয়ত বিজ্ঞান নির্ভর হয়ে পড়ছে। আমরা নিজেদের পরিবেশ ও মানসিকতার বিচারে বুঝতে পারি আমাদের কতটা আবেগ কমেছে এবং আমরা কতটা যান্ত্রিক হয়ে গেছি। ধারণা করা যায়, এমন একটা সময় আসবে যখন বিজ্ঞানই মৌলিক চিন্তার বিষয় হবে এবং বিজ্ঞান বিষয়ক কবিতা বা সাহিত্য-ই টিকে থাকবে।
কবি নূরুল ইসলামের 'অবিনাশী উত্থান' কবিতাটি সেই সুদূর প্রসারী ভবিষ্যতের ভাবনায় লেখা একটি অনবদ্য কবিতা। কবিতাটি বিষয় ভাবনায় উত্তরাধুনিক, আঙ্গিক বা ফর্মগত বৈশিষ্ট্য নয়। স্মর্তব্য, বাংলা কবিতায় এখনও আধুনিকতার বৈশিষ্ট্যগুলো প্রকট হয়ে ওঠেনি সেখানে উত্তরাধুনিকতার প্রশ্ন অত্যুক্তি ছাড়া কিছু নয়। উত্তরাধুনিক কবিতার আঙ্গিক ও বৈশিষ্ট্য নিরূপণ পুরোপুরি সম্ভব নয়, কারণ তা এখনও প্রবহমান ও অসম্পূর্ণ। কিছু বৈশিষ্ট্য হয়তো প্রকট হতে শুরু করেছে। তবে এটা বেশ জোর দিয়েই বলা যায়, উত্তরাধুনিক কবিতার অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য বিজ্ঞান মনস্কতা।
কবি নূরুল ইসলামের এই কবিতাটি মানুষের জন্মের ইতিহাস, ভবিষ্যৎ, মৃত্যুর ধারণাকে ইঙ্গিত করে। অর্থাৎ, মানুষের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের অমোঘ সত্যের আলোকপাত করে। দর্শন, বিজ্ঞান ও ইসলামী মিথোলজি কবিতার মূল উপজীব্য। দর্শন ও বিজ্ঞানকে আশ্রয় করে চিরন্তন সত্যের অনুসন্ধানী এই কবিতা। যে সত্যকে খুঁজে ফেরা আমৃত্যু। কোরআন সত্য এবং একজন মুসলিম হিসেবে কবি নূরুল ইসলাম কোরআনের চেতনাকে ধারণ ও লালন করেন নিজের মনন সৌকর্যে ও শুদ্ধ চেতনায়।
কবি সৈয়দ শামসুল হক তাঁর 'আমার পরিচয়' কবিতায় যেমনি বাঙালি জাতির জন্মের ইতিহাস তুলে ধরেছেন, কবি নূরুল ইসলাম সেই থিমকে নিয়ে গেছেন মানুষ সৃষ্টির ইতিহাস ও পরিণতির দিকে। সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল নূরুল ইসলামের এই কবিতা। কবিতাটিতে মিথের ব্যবহার চোখে পড়ার মত। রাগলার এর মতে Myth হলো, 'A narrative linked with a rite'. অর্থাৎ, অতীত কোন ব্রতানুষ্ঠান কিংবা তার স্মৃতিবহ ঘটনাই মিথ। মিথ ঈশ্বর ও দেব-দেবী সম্পর্কিত বিজ্ঞান-পূর্ব ধারণার ব্যাখ্যা। ক্যাম্পবেলের মতে মানব জীবনের আত্মিক সম্ভাবনার সংকেতচাবী হল মিথ।
কবি তাঁর সৃষ্টির রহস্যকে উন্মোচন করেছেন কবিতায়। কোথা থেকে আমরা এসেছি সেটি চিত্রকল্পের ব্যবহারে নিপুণ ব্যবহারে। দৃশ্যকল্পের বর্ণনার মধ্য দিয়ে একটি ইতিহাসের স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছে। যৌগ থেকে আমাদের সৃষ্টি। ধর্মের বাণীকে বিজ্ঞান ব্যাখ্যা করে প্রমাণ দিয়েছে।
কবির কণ্ঠে বাঙময় হয়ে উঠেছে-
আমি মহা-বিশ্বের অবিচ্ছেদ্য শক্তির কণিকা
আমি অবিনশ্বরের সৃষ্ট অবিনাশী উত্থান
আমার রূপান্তর হবে যুগে যুগে তবে ধ্বংস নেই।
কবি এখানে পদার্থবিজ্ঞানের শক্তির অবিনাশিতাবাদ সূত্রকে তুলে এনেছেন কবিতায়, মহাবিশ্বের মোট শক্তির পরিমাণ নির্দিষ্ট ও অপরিবর্তনীয়। শক্তির কোন সৃষ্টি বা বিনাশ নেই। শক্তি কেবল এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তরিত হয়।
মহাকালধরে মহাবিশ্বের মহাগর্ভে মানুষের নিবাস। মানুষের ক্ষয় বা বিনাশ নেই। স্থানান্তর আছে ইহকাল থেকে পরকালে। কোরআনের বর্ণনা মতে, হাশরের দিনে বা পুনরুত্থান দিবসে মানুষ পুনরুত্থিত হবে। আল্লাহর নেক বান্দা সেদিন আরশের ছায়া পাবে এবং পাপী বান্দা উত্তপ্ত সূর্যে দগ্ধীভূত হবে।
কবি নূরুল ইসলামের 'অবিনাশী উত্থান' কবিতাটি বিষয়গত দিক দিয়ে শুদ্ধ চেতনার উন্মেষ ও নতুন ভাবাধারায় প্রতিষ্ঠিত। নতুন চৈতন্যে উদ্ভাসিত হোক আমাদের কবিতা অঙ্গন, জীবনবাদী মানসিক বোধে সুস্থ হয়ে উঠুক আগামির কবিতা। পালাবদলের ঐকতানে মুখরিত হোক বর্তমান প্রজন্মের কবিকণ্ঠ।
কবিতাটি তুলে ধরছি-
অবিনাশী উত্থান
আমি এসেছি এখানে ১৪.৯ কোটি
কিলোমিটার দূরের সহস্র সহস্র কোটি বছরের
সুসমৃদ্ধ রক্তিম সুয্যির প্রজ্বলিত খণ্ডিত মঞ্চ থেকে
আমি এসেছি এখানে মহাকালের হাত ধরে
মহাসাগরের উত্তাল উর্মি নাচনের মাতন থেকে
আমি এসেছি এখানে অসামান্য অম্লজানের
নাভীমূলে উদগিরিত মহা-বিস্ময়াভিভূত কণিকা থেকে।
আমি এসেছি এখানে কঠিন শীলার আস্তর ভাঙ্গা
ধুলি মাটি কণা মিশ্রিত অজস্র ধাতব পদার্থ থেকে
আমি এসেছি এখানে অজৈব থেকে জৈব হয়ে
আমার উৎস হঠাৎ কোনো ঝড়ো হাওয়ায়
পড়ে যাওয়া কাকের বাসার তৃণখণ্ড থেকে নয়।
আমি মহা-বিশ্বের অবিচ্ছেদ্য মহাশক্তির কণিকা
আমি অবিনশ্বরের সৃষ্ট অবিনাশী উত্থান
আমার রূপান্তর হবে যুগে যুগে তবে ধ্বংস নেই।
সকল চেতনার উৎসমূলে আমার আবাসভূমি
আমি রয়ে যাব এখানে নয়তো সেখানে
নিরন্তর মহাবিশ্বের মহা কুণ্ডলীতে আমার ধ্বংস নেই
মহাকাল ধরে মহাবিশ্বের মহাগর্ভেই আমার নিবাস।
আমি মৃত্যুকে করিনা ডর মৃর্ত্যু আমার নেই
মহা-প্রলয়ে খণ্ড বিখণ্ড হয়েও রোজ হাসরের মাঠে
সুয্যির নীচে কিংম্বা আরসের ছায়াতলে জাগ্রত হব সেদিনও আমার
স্টিফেন হকিংস এর বিগ ব্যাং থিওরি তত্ত্ব থেকে আমরা পৃথিবী সৃষ্টির ধারণা পাই। একটা সময় ছিল যখন পৃথিবীতে কবিতার অস্তিত্ব ছিল না। চর্যাপদ থেকে বাংলা সাহিত্যের সূচনা। চর্যাপদ কিংবা গিলগামেশের আগে বাংলায় কোন সাহিত্য রচিত হয়েছিল কিনা সেটার অস্তিত্ব সম্পর্কে আমরা ওয়াকিবহাল নই। একটা সময় সাহিত্যের অস্তিত্ব কতটুকু থাকবে সেটাও বলা মুশকিল। আবেগ, অনুভূতিকে ঘিরে কবিতার সৃষ্টি। সেই আবেগের জলাঞ্জলি হচ্ছে বিজ্ঞানের বিকাশের সাথে সাথে। মানুষ প্রতিনিয়ত বিজ্ঞান নির্ভর হয়ে পড়ছে। আমরা নিজেদের পরিবেশ ও মানসিকতার বিচারে বুঝতে পারি আমাদের কতটা আবেগ কমেছে এবং আমরা কতটা যান্ত্রিক হয়ে গেছি। ধারণা করা যায়, এমন একটা সময় আসবে যখন বিজ্ঞানই মৌলিক চিন্তার বিষয় হবে এবং বিজ্ঞান বিষয়ক কবিতা বা সাহিত্য-ই টিকে থাকবে।
কবি নূরুল ইসলামের 'অবিনাশী উত্থান' কবিতাটি সেই সুদূর প্রসারী ভবিষ্যতের ভাবনায় লেখা একটি অনবদ্য কবিতা। কবিতাটি বিষয় ভাবনায় উত্তরাধুনিক, আঙ্গিক বা ফর্মগত বৈশিষ্ট্য নয়। স্মর্তব্য, বাংলা কবিতায় এখনও আধুনিকতার বৈশিষ্ট্যগুলো প্রকট হয়ে ওঠেনি সেখানে উত্তরাধুনিকতার প্রশ্ন অত্যুক্তি ছাড়া কিছু নয়। উত্তরাধুনিক কবিতার আঙ্গিক ও বৈশিষ্ট্য নিরূপণ পুরোপুরি সম্ভব নয়, কারণ তা এখনও প্রবহমান ও অসম্পূর্ণ। কিছু বৈশিষ্ট্য হয়তো প্রকট হতে শুরু করেছে। তবে এটা বেশ জোর দিয়েই বলা যায়, উত্তরাধুনিক কবিতার অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য বিজ্ঞান মনস্কতা।
কবি নূরুল ইসলামের এই কবিতাটি মানুষের জন্মের ইতিহাস, ভবিষ্যৎ, মৃত্যুর ধারণাকে ইঙ্গিত করে। অর্থাৎ, মানুষের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের অমোঘ সত্যের আলোকপাত করে। দর্শন, বিজ্ঞান ও ইসলামী মিথোলজি কবিতার মূল উপজীব্য। দর্শন ও বিজ্ঞানকে আশ্রয় করে চিরন্তন সত্যের অনুসন্ধানী এই কবিতা। যে সত্যকে খুঁজে ফেরা আমৃত্যু। কোরআন সত্য এবং একজন মুসলিম হিসেবে কবি নূরুল ইসলাম কোরআনের চেতনাকে ধারণ ও লালন করেন নিজের মনন সৌকর্যে ও শুদ্ধ চেতনায়।
কবি সৈয়দ শামসুল হক তাঁর 'আমার পরিচয়' কবিতায় যেমনি বাঙালি জাতির জন্মের ইতিহাস তুলে ধরেছেন, কবি নূরুল ইসলাম সেই থিমকে নিয়ে গেছেন মানুষ সৃষ্টির ইতিহাস ও পরিণতির দিকে। সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল নূরুল ইসলামের এই কবিতা। কবিতাটিতে মিথের ব্যবহার চোখে পড়ার মত। রাগলার এর মতে Myth হলো, 'A narrative linked with a rite'. অর্থাৎ, অতীত কোন ব্রতানুষ্ঠান কিংবা তার স্মৃতিবহ ঘটনাই মিথ। মিথ ঈশ্বর ও দেব-দেবী সম্পর্কিত বিজ্ঞান-পূর্ব ধারণার ব্যাখ্যা। ক্যাম্পবেলের মতে মানব জীবনের আত্মিক সম্ভাবনার সংকেতচাবী হল মিথ।
কবি তাঁর সৃষ্টির রহস্যকে উন্মোচন করেছেন কবিতায়। কোথা থেকে আমরা এসেছি সেটি চিত্রকল্পের ব্যবহারে নিপুণ ব্যবহারে। দৃশ্যকল্পের বর্ণনার মধ্য দিয়ে একটি ইতিহাসের স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছে। যৌগ থেকে আমাদের সৃষ্টি। ধর্মের বাণীকে বিজ্ঞান ব্যাখ্যা করে প্রমাণ দিয়েছে।
কবির কণ্ঠে বাঙময় হয়ে উঠেছে-
আমি মহা-বিশ্বের অবিচ্ছেদ্য শক্তির কণিকা
আমি অবিনশ্বরের সৃষ্ট অবিনাশী উত্থান
আমার রূপান্তর হবে যুগে যুগে তবে ধ্বংস নেই।
কবি এখানে পদার্থবিজ্ঞানের শক্তির অবিনাশিতাবাদ সূত্রকে তুলে এনেছেন কবিতায়, মহাবিশ্বের মোট শক্তির পরিমাণ নির্দিষ্ট ও অপরিবর্তনীয়। শক্তির কোন সৃষ্টি বা বিনাশ নেই। শক্তি কেবল এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তরিত হয়।
মহাকালধরে মহাবিশ্বের মহাগর্ভে মানুষের নিবাস। মানুষের ক্ষয় বা বিনাশ নেই। স্থানান্তর আছে ইহকাল থেকে পরকালে। কোরআনের বর্ণনা মতে, হাশরের দিনে বা পুনরুত্থান দিবসে মানুষ পুনরুত্থিত হবে। আল্লাহর নেক বান্দা সেদিন আরশের ছায়া পাবে এবং পাপী বান্দা উত্তপ্ত সূর্যে দগ্ধীভূত হবে।
কবি নূরুল ইসলামের 'অবিনাশী উত্থান' কবিতাটি বিষয়গত দিক দিয়ে শুদ্ধ চেতনার উন্মেষ ও নতুন ভাবাধারায় প্রতিষ্ঠিত। নতুন চৈতন্যে উদ্ভাসিত হোক আমাদের কবিতা অঙ্গন, জীবনবাদী মানসিক বোধে সুস্থ হয়ে উঠুক আগামির কবিতা। পালাবদলের ঐকতানে মুখরিত হোক বর্তমান প্রজন্মের কবিকণ্ঠ।
কবিতাটি তুলে ধরছি-
অবিনাশী উত্থান
আমি এসেছি এখানে ১৪.৯ কোটি
কিলোমিটার দূরের সহস্র সহস্র কোটি বছরের
সুসমৃদ্ধ রক্তিম সুয্যির প্রজ্বলিত খণ্ডিত মঞ্চ থেকে
আমি এসেছি এখানে মহাকালের হাত ধরে
মহাসাগরের উত্তাল উর্মি নাচনের মাতন থেকে
আমি এসেছি এখানে অসামান্য অম্লজানের
নাভীমূলে উদগিরিত মহা-বিস্ময়াভিভূত কণিকা থেকে।
আমি এসেছি এখানে কঠিন শীলার আস্তর ভাঙ্গা
ধুলি মাটি কণা মিশ্রিত অজস্র ধাতব পদার্থ থেকে
আমি এসেছি এখানে অজৈব থেকে জৈব হয়ে
আমার উৎস হঠাৎ কোনো ঝড়ো হাওয়ায়
পড়ে যাওয়া কাকের বাসার তৃণখণ্ড থেকে নয়।
আমি মহা-বিশ্বের অবিচ্ছেদ্য মহাশক্তির কণিকা
আমি অবিনশ্বরের সৃষ্ট অবিনাশী উত্থান
আমার রূপান্তর হবে যুগে যুগে তবে ধ্বংস নেই।
সকল চেতনার উৎসমূলে আমার আবাসভূমি
আমি রয়ে যাব এখানে নয়তো সেখানে
নিরন্তর মহাবিশ্বের মহা কুণ্ডলীতে আমার ধ্বংস নেই
মহাকাল ধরে মহাবিশ্বের মহাগর্ভেই আমার নিবাস।
আমি মৃত্যুকে করিনা ডর মৃর্ত্যু আমার নেই
মহা-প্রলয়ে খণ্ড বিখণ্ড হয়েও রোজ হাসরের মাঠে
সুয্যির নীচে কিংম্বা আরসের ছায়াতলে জাগ্রত হব সেদিনও আমার
হবেই হবে অস্তিত্বের ঠাঁই।
তারিখঃ ১৯.৩.২০১৭

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন