রাশিয়ার কবিতা

আলেকজান্ডার পুশকিন (১৭৯৯-১৮৩৭)

(কবিতার প্রকৃত অর্থে কোন অনুবাদ হয় না। পুশকিনের একটি কবিতা ইংরেজিতে অনুবাদ করার পর যখন মূল ভাষায় অর্থাৎ রুশ ভাষায় অনুবাদ করি তখন বিস্মিত হয়েছি। স্বাদে, গন্ধে, অর্থে অন্য আর এক কবিতা। মূল ভাষা থেকে ছাড়া অনুবাদে কবিতার ফ্লেবার অনেকটা নষ্ট হয়ে যায়। দুই ভার্সনের অনুবাদ তুলে ধরছি।)

(ইংরেজি থেকে অনুবাদ)
একটি মায়াবী মুহূর্ত মনে পড়ে

একটি মায়াবী মুহূর্ত মনে পড়েঃ
আমি উন্নীত করি আমার আঁখি এবং সেখানে পেয়ে যাই তোমাকে 
 একটি চতুর দৃষ্টি, পঞ্চ ইন্দ্রিয় 
তার সমস্ত সৌন্দর্য বিরল
 
আমি প্রার্থনা করি অব্যক্ত হতাশা এবং যন্ত্রণা,
পৃথিবীর তুচ্ছ বিষয় বলে গণ্য হোক
 
আমি কী তোমার শীতল কণ্ঠ শুনিনি,
 
টের পাইনি কী তোমার উপস্থিতি আমার স্বপ্নে
 
সময় চলে যায়।
 
একটি বিদ্রোহী ঝড়-প্রবল প্রলয়ে ছিন্নভিন্ন করে
 
আমার একান্ত দিবাস্বপ্ন ছিল যা
 
এবং আমি ভুলে যাই তোমার শীতল কণ্ঠ
 
 তোমার স্বর্গীয় সুকুমার অবয়ব। 
অন্ধকার দিন নিয়ে আসে তুমুল স্থবিরতা
 
ধূসর আকাশের পানে আমি অপলক চেয়ে থাকি
কোন আদর্শ আমাকে অনুপ্রাণিত করে না
 
কেউই কান্নাকাটি করে না, জীবন, ভালোবাসা।
 
তারপর এলো পুনর্জাগরণের একটি মুহূর্ত
 
আমি দেখেছিলাম-তুমি পুনরায় সেখানে আছো
 
একটি চতুর দৃষ্টি, পঞ্চ ইন্দ্রিয়
যার আদ্যোপান্ত সুন্দর এবং বিরল।

(রুশ ভাষা থেকে অনুবাদ) 
একটি বিস্ময়কর মুহূর্ত স্মরণ করি

একটি বিস্ময়কর মুহূর্ত স্মরণ করি; 
আমার সামনে তুমি ছিলে,
একটি শ্যেন দৃষ্টির মত,
 
বিশুদ্ধ সৌন্দর্যের দৃষ্টান্ত হিসেবে।
আশাহীন মনমরা যন্ত্রণার
উদ্বেগ সশব্দ হইচই,
যা একটি দীর্ঘ কোমল মৃদু ঝাঁকুনি,
এবং চমৎকার বৈশিষ্ট্য স্বপ্নেও ভাবিনি।
বছর শেষে, ঝড়ের বিদ্রোহী ঝাপটা
বিক্ষিপ্ত পুরনো স্বপ্ন
 
আর আমি তোমার কোমল স্বর ভুলে গেছি,
তোমার স্বর্গীয় বৈশিষ্ট্য।
উপবন, বন্দিদশা অন্ধকারে মধ্যে,
আমার দিনগুলো শান্তভাবে আমাকে টেনেছে,
 
দেবতা ছাড়া, অনুপ্রেরণা ছাড়া,
কোন অশ্রু, প্রেম ছাড়া কোন জীবন।
সল জাগরণ এসেছিল;
আর সেখানে আবার তুমি ছিলে,
একটি শ্যেন দৃষ্টির মত,
বিশুদ্ধ সৌন্দর্যের দৃষ্টান্ত হিসেবে।


ভালবেসেছিলাম.........

একদিন ভালবেসেছিলাম তোমায়,
সেই ভালবাসার রেশ আজও রয়ে গেছে
হয়তো এই অনুভূতি আজীবন রয়েই যাবে।
তবুও আমার ভালবাসা তোমাকে আর স্পর্শ করবে না,
আমি চাইনা আমার ভালবাসা তোমাকে কোন যন্ত্রণা দিক;
তোমাকে ভালবেসে বুঝেছি ভালবাসা না পাওয়ার কষ্ট,
আমার সমস্ত ঈর্ষা, আমার লজ্জা
আমার ধমনী দিয়ে বয়ে চলে,
জন্ম দিয়েছে নিবিড় নিখাদ এক ভালোবাসার।
তাই আমার ঈশ্বর জানেন,
আমি তোমাকে এখনও ভালোবাসি।



কবি পরিচিতিঃ রুশ সাহিত্যসম্রাট আলেকজান্ডার পুশকিন (আলেক্সান্দ্‌র সের্গেইয়েভিচ পুশকিন) ১৭৯৯ সালের ৬ জুন মস্কোতে জন্মগ্রহণ করেন। ইংরেজি সাহিত্যে যেমন শেকস্‌পীয়র, জার্মান সাহিত্যে গ্যেটে, বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ, তেমনি রুশসাহিত্যে পুশকিনের রাজত্ব। মাত্র ৩৮ বছরের জীবনকালে তিনি খ্যাতির চূড়ায় আরোহণ করেন। তাঁকে অভিহিত করা হয় আধুনিক রুশসাহিত্যের জনক হিসেবে। আশ্চর্য দখল ও দক্ষতা ছিল তাঁর ভাষার ওপর। অগ্রজ সাহিত্যিকদের প্রতিষ্ঠিত ভাষারীতির অনুসরণ না করে স্বকীয় ভাষারীতির নির্মাণ করেন তিনি। যার বৈশিষ্ট্য গতিময়তা ও আধুনিকতা। ফলে ভাষা প্রাঞ্জলতাও গভীরতা লাভ করে। তিনি কবি, কিন্তু উপন্যাস রচনায় হাত দিয়েও তিনি সার্থক। তাঁর রচিত উপন্যাস 'ইয়েভেজোনওনেজিন'- রুশ কথাসাহিত্যের মাইলস্টোন হিসেবে খ্যাত। বাস্তব জীবনকে উপজীব্য করে তিনি এ উপন্যাস রচনা করেন। রুশসাহিত্যে এটা একেবারেই নতুনধারা, স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বলপ্রোজ্জ্বল। ১৫ বছর বয়সেই ১৮১৪ সালে পুশকিনের প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। 'Messenger of Europe' নামে প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৮১৪ সালে। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'Ruslam lyudman'। ১৮২০ সালে রুসলানইলুদমিনা নামে কাহিনীকাব্য প্রকাশিত হলে তাঁকে উদীয়মান কবি হিসেবে ধরেনে অনেকে। কবির ব্যক্তিগত জীবন সুখের ছিলনা। মায়ের দিক থেকে তিনি রুশসম্রাটের বংশধর ছিলেন। ১৮৩৭ সালে কিছু ব্যক্তিগত শত্রুর সঙ্গে সামনাসামনি সংঘর্ষে তিনি আহত হন এবং দুদিন পরে ১০ ফেব্রুয়ারি ১৮৩৭ সালে মারা যান।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

তোমার জন্য রজনীগন্ধা দিন

জার্মানির কবিতা