গোলকধাঁধা



উৎসর্গঃ আমার কবিতার প্রথম পাঠক, যার কাছে আমার শুদ্ধতার প্রথম পাঠ, আমার ওস্তাদজী এবং অভিভাবকপ্রতিম বন্ধু হাফেজ মাওলানা জাকির হুসাইনকে।
অতঃপর আমাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে নেওয়া হল গুপ্ত ঘরে
এক এক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হল আমার আদ্যোপান্ত
আমার কৃতকর্মের এপিঠ ওপিঠ
মুহূর্তেই মনে হল মুনকার নাকির আমাকে প্রশ্ন করছে
গুপ্ত ঘর যেন ঠিক গুপ্ত ঘর নয় একটা অন্ধকার কবর
আমি কোন অপরাধ করেছি কিনা ঠিক বলতে পারিনি
আসলে আমি কোন অপরাধ করেছি কিনা জানিনা
যদিও পাপ করেছি অগণিত...
ইউনিফর্ম পরা দুজন লোক আমার কোন কথাই বিশ্বাস করলেন না
তারা আমার সমস্ত অপরাধের খেরোখাতা সামনে তুলে ধরলেন
 
আমি হতবাক!
 
একজন সাক্ষী তার জবাববন্দীতে আমার সমস্ত কৃতকর্মের সাক্ষী দিয়েছে
জানলাম, সে আর কেউ নয়
আমার প্রেমিকা
বুঝলাম, আজকাল পৃথিবীর কোন প্রেমিকাই বিশ্বাসযোগ্য নয়
হয়তো কোন প্রেমিকও
আসলেই কোন মানুষই আজ আর বিশ্বাসযোগ্য নেই
বস্তুত, মানুষ এবং বিশ্বাস শব্দ দুটি অভিধানেই মানায়!
আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হল
আমাকে রাখা হবে বিশেষ নজরদারীতে
 
মনে মনে বললাম, হে আল্লাহ্‌! আমার কোন দোষ নেই,
 
আমি কোন অপরাধ করিনি।
 
তবে কি মানুষকে ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় অপরাধ
আমি শুধু মুখ বড় করে সিনা টান করে
আমার প্রেমিকাকে আমার বীরত্বের ইতিহাস বলেছিলাম
 
মুহূর্তেই মনে হল আমার প্রেমিকা ঠিক প্রেমিকা নয়
আজদাহা সাপ
আমাকে দংশন করেছে আমার মিথ্যা আস্ফালনের জন্য
এইসব যাবতীয় যন্ত্রণায় প্রাণ যখন ওষ্ঠাগত 
আমি তখন পালাতে চেষ্টা করলাম
আসলে পালানোর কোন জায়গা নেই
কী বিবেকের কারাগার কী দৃষ্টির অন্তরালে!
 
এর চেয়ে ঢের ভালো শুদ্ধতার পথে হাঁটা
বস্তুত কোন অপরাধী তার অপরাধ স্বীকার করে না
এবং আমি ‘আল-আমিন’ নই
সমস্ত অপরাধীর মত আমিও শাস্তির চৌহদ্দি পেরোনোর জন্য পালাতে লাগলাম
পালাতেই লাগলাম
সমস্ত বশংবদ এবং নিজের থেকেও
হঠাৎ দেখলাম একটা আস্ত পাহাড় বেয়ে আমি উঠে যাচ্ছি
মাটির পৃথিবী ছেড়ে
পাহাড়টা চক্রাকারে ঘুরছে
আমি এবং আমরা সবাই হারিয়ে যাচ্ছি
এবং নিজেকে হারিয়ে ফেলছি গোলকধাঁধার মধ্যে
আযাযীলের দোহাই দিয়ে
নিজেরাই বনে যাচ্ছি
 
ভয়ঙ্কর দাজ্জাল
এবং মাঝে মধ্যে ব্যক্তিগত পৃথিবীর রাজা
যেমন ছিল ফেরাউন এবং নমরুদ
মূলত এই গোলকধাঁধা ঠিক গোলকধাঁধা নয়
নিজেদের তৈরি একটা মরণ ফাঁদ
নিজেদের জালে নিজেরাই ফেঁসে যাচ্ছি
 
হাসছি কিন্তু ভেতরে পুড়ছে শলাকার মত জ্বলন্ত জ্বলনে
জ্ঞানপাপী হয়ে বড়জোর এপারে রাজত্ব করা যায়
কিন্তু ওপারে?
এইসব গোলকধাঁধা চক্রাবর্তে ফিরে আসে
আমি পার পেয়ে যাই পৃথিবীর সমস্ত অপরাধ থেকে
ঘোর কাটতেই দেখি চোরাবালিতে আটকে যাচ্ছে আমার চতুর পা
 
এবং পা দুটি ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছে আর এক জিজ্ঞাসাবাদের দিকে!
তারিখঃ ৮ জানুয়ারি, ২০১৭ খ্রি.।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাশিয়ার কবিতা

তোমার জন্য রজনীগন্ধা দিন

জার্মানির কবিতা