গ্রন্থ আলোচনা
অনন্ত তৃষ্ণার বহ্নিশিখাঃ অশোক বিশ্বাস
কবিতা বস্তুজগত ও ব্যক্তিজগতের এক
মনোদৈহিক মিলনকুঞ্জ। অনেকের মতে, আধুনিক কবিতা শুধু
দুর্বোধ্য নয় অবাধ্যও। নিয়ম-নীতি-ব্যাকরণ এ কবিতা স্বীকার করেনা। এ কারণে কেউ কেউ
একে ‘শাপভ্রষ্ট আদমের আর্তনাদ’ বলে
অভিহিত করেছেন। আদমের মত এরও পতন স্বর্গের নন্দন কানন থেকে মর্তের কর্দম-মলিন
পিচ্ছিল পথে। অভিযোগের এখানেই সমাপ্তি নয়, সে তালিকা অনেক
দীর্ঘ। এর নির্দিষ্ট কোন ধর্ম নেই; কোন রং নেই। ‘এর বর্ণ ধূপছায়া, মর্ম জঙ্গমতা, ধর্ম বহুদেববাদ’ কাজেই স্বভাবে বহুরূপী।
আমিত্বের স্পর্ধিত অহংকারে অভিমানী আর ভাঙার নেশায় উন্মাদ এই কবিতা। কবি অশোক
বিশ্বাসও নিয়মিত ভাঙার নেশায় মত্ত। তিনি নিয়মিত তাঁর কবিতায় নানারকম
পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চলেছেন। তিনি একজন পরিণত কবি এবং কবিতায় প্রকাশিত হয়েছেন
মধ্য বয়সে এসে।
ইউরোপজাত সুররিয়ালিজম, এক্সপ্রেশনিজম, ইমপ্রেশনিজম, কিউবিজম, সিম্বলিজম, সুফিজম, লোকজ শব্দের ব্যবহার, প্রতীকী ব্যঞ্জনা ও প্রত্নিক পুরাণ তাঁর কবিতার অনিবার্য অনুষঙ্গ। কবিতার আত্মা ও শরীর নির্মাণে তিনি সিদ্ধহস্ত। বর্তমান প্রজন্মের অধিকাংশ কবিই কবিতার আত্মা ও শরীর সচেতন নয়। সেই দিক থেকে অশোক বিশ্বাস ব্যতিক্রম। শিল্পের স্বার্থে তিনি ধ্যানস্থ হতে ভালোবাসেন।
অর্থযুক্ত কতকগুলি বাক্য নিয়েই কাব্য অর্থাৎ কাব্যের দেহ বা শরীর হচ্ছে বাক্য। বাক্যের এই শরীর সাজিয়ে গুছিয়ে অলংকৃত করলে তা সুন্দর হবে তাতে কাব্যিক সৌন্দর্য ফুটবে কিনা বলা কঠিন। তবে বাক্যটির গঠন-প্রণালী যদি নারীদেহের মতো লাবণ্যময়ী হয় এবং তা অলংকৃত না হলেও শুধুমাত্র দৈহিক লাবণ্যতার জন্য দৃষ্টিনন্দিত হবে-শ্রুতিমধুর হবে। রমণীর লাবণ্য দেহকে অবলম্বন করে থাকে কিন্তু তা দেহাতীতও। অলংকারে ভূষিত করলেও তা লাবণ্যময়ী, অলংকার না দিলেও লাবণ্যময়ী। কাব্যের এই মৌলিক গঠন-প্রণালী দেহাতীত ব্যঞ্জনা। ব্যাচ্যাতিরিক্ত বা শব্দার্থের অতীত বা অতিরিক্ত ব্যঞ্জনাই কাব্যের আত্মা। এজন্যেই ধ্বনিবাদীরা বলেন, ধ্বনিই কাব্যের আত্মা ‘ধ্বনিতাত্মা কাব্যস্য’। আলংকারিকদের আরেকদল বলেন, কাব্যের আত্মা হচ্ছে রীতি বা স্টাইল। বামন বলেছেন, ‘কী বলব সেটাই বড় কথা নয়, কেমন করে বলব সেটাই আসল’। বলার এই স্টাইল কাব্যকে শ্রুতিমধুর ও উপভোগ্য করে তোলে। এজন্যই বোধ হয় শোনা যায়- ‘স্টাইল ইজ দি ম্যান’।
অশোক বিশ্বাস তাঁর সৃষ্টিতে প্রাতিস্বিক। তিনি উচ্চারণ করেন, ‘এইসব বিকেল গড়িয়ে/ ঠাঁই নেয় সন্ধ্যার কোলে/ আমি একা পান করি বাতাসের শ্যাম্পেন’। তিনি শুনতে পান ‘কারো বাঁশিতে একান্তে বেজে ওঠে বেদনার বিউগল’ কিংবা আপন মনে বলে ওঠেন ‘রাখালের বেদনাবিধুর সুর শুনে/শ্যামপ্রেমে ভরে যাবে হৃদয় আমার’। রোমান্টিকতার পেলবে জড়ানো তাঁর কবিতার শরীর। তিনি বলে ওঠেন, ‘তোমার গলায় প্রেমের রশি টান দিয়েছি এসেই পড়ো’। তিনি ব্যথিত স্বরে উচ্চারণ করেন, ‘যেসব রোদের পায়ে বহুদিন ছড়িয়েছি আলো/ আজ তারা কাক হয়ে ওড়ে’।
কবির সমস্ত কবিতায় বিষয়বস্তুর মৌলিক উপাদার উঠে এসেছে প্রকৃতি বর্ণনা শৈলীর নানান প্রভাব, পল্লীর তুচ্ছাতিতুচ্ছ বিষয় এবং নৈসর্গিক চেতনা ধরা দিয়েছে লালিত সুষমায়।
বর্তমান প্রজন্মের কবি ও পাঠকদের তৃষ্ণার খোরাক জোগাবে অশোক বিশ্বাসের ‘অনন্ত তৃষ্ণার বহ্নিশিখা’ কাব্যগ্রন্থটি। সবার সংগ্রহে রাখার মত একটি বই। তাঁর শুদ্ধ চেতনাবোধ ও মননশীলতা কাউকে ভুল পথে পরিচালিত করবে না বলে আমার বিশ্বাস।
ইউরোপজাত সুররিয়ালিজম, এক্সপ্রেশনিজম, ইমপ্রেশনিজম, কিউবিজম, সিম্বলিজম, সুফিজম, লোকজ শব্দের ব্যবহার, প্রতীকী ব্যঞ্জনা ও প্রত্নিক পুরাণ তাঁর কবিতার অনিবার্য অনুষঙ্গ। কবিতার আত্মা ও শরীর নির্মাণে তিনি সিদ্ধহস্ত। বর্তমান প্রজন্মের অধিকাংশ কবিই কবিতার আত্মা ও শরীর সচেতন নয়। সেই দিক থেকে অশোক বিশ্বাস ব্যতিক্রম। শিল্পের স্বার্থে তিনি ধ্যানস্থ হতে ভালোবাসেন।
অর্থযুক্ত কতকগুলি বাক্য নিয়েই কাব্য অর্থাৎ কাব্যের দেহ বা শরীর হচ্ছে বাক্য। বাক্যের এই শরীর সাজিয়ে গুছিয়ে অলংকৃত করলে তা সুন্দর হবে তাতে কাব্যিক সৌন্দর্য ফুটবে কিনা বলা কঠিন। তবে বাক্যটির গঠন-প্রণালী যদি নারীদেহের মতো লাবণ্যময়ী হয় এবং তা অলংকৃত না হলেও শুধুমাত্র দৈহিক লাবণ্যতার জন্য দৃষ্টিনন্দিত হবে-শ্রুতিমধুর হবে। রমণীর লাবণ্য দেহকে অবলম্বন করে থাকে কিন্তু তা দেহাতীতও। অলংকারে ভূষিত করলেও তা লাবণ্যময়ী, অলংকার না দিলেও লাবণ্যময়ী। কাব্যের এই মৌলিক গঠন-প্রণালী দেহাতীত ব্যঞ্জনা। ব্যাচ্যাতিরিক্ত বা শব্দার্থের অতীত বা অতিরিক্ত ব্যঞ্জনাই কাব্যের আত্মা। এজন্যেই ধ্বনিবাদীরা বলেন, ধ্বনিই কাব্যের আত্মা ‘ধ্বনিতাত্মা কাব্যস্য’। আলংকারিকদের আরেকদল বলেন, কাব্যের আত্মা হচ্ছে রীতি বা স্টাইল। বামন বলেছেন, ‘কী বলব সেটাই বড় কথা নয়, কেমন করে বলব সেটাই আসল’। বলার এই স্টাইল কাব্যকে শ্রুতিমধুর ও উপভোগ্য করে তোলে। এজন্যই বোধ হয় শোনা যায়- ‘স্টাইল ইজ দি ম্যান’।
অশোক বিশ্বাস তাঁর সৃষ্টিতে প্রাতিস্বিক। তিনি উচ্চারণ করেন, ‘এইসব বিকেল গড়িয়ে/ ঠাঁই নেয় সন্ধ্যার কোলে/ আমি একা পান করি বাতাসের শ্যাম্পেন’। তিনি শুনতে পান ‘কারো বাঁশিতে একান্তে বেজে ওঠে বেদনার বিউগল’ কিংবা আপন মনে বলে ওঠেন ‘রাখালের বেদনাবিধুর সুর শুনে/শ্যামপ্রেমে ভরে যাবে হৃদয় আমার’। রোমান্টিকতার পেলবে জড়ানো তাঁর কবিতার শরীর। তিনি বলে ওঠেন, ‘তোমার গলায় প্রেমের রশি টান দিয়েছি এসেই পড়ো’। তিনি ব্যথিত স্বরে উচ্চারণ করেন, ‘যেসব রোদের পায়ে বহুদিন ছড়িয়েছি আলো/ আজ তারা কাক হয়ে ওড়ে’।
কবির সমস্ত কবিতায় বিষয়বস্তুর মৌলিক উপাদার উঠে এসেছে প্রকৃতি বর্ণনা শৈলীর নানান প্রভাব, পল্লীর তুচ্ছাতিতুচ্ছ বিষয় এবং নৈসর্গিক চেতনা ধরা দিয়েছে লালিত সুষমায়।
বর্তমান প্রজন্মের কবি ও পাঠকদের তৃষ্ণার খোরাক জোগাবে অশোক বিশ্বাসের ‘অনন্ত তৃষ্ণার বহ্নিশিখা’ কাব্যগ্রন্থটি। সবার সংগ্রহে রাখার মত একটি বই। তাঁর শুদ্ধ চেতনাবোধ ও মননশীলতা কাউকে ভুল পথে পরিচালিত করবে না বলে আমার বিশ্বাস।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন