মাস্টারদা, তোমাকে বলছি


মাস্টারদা, আজ তোমার মৃত্যুবার্ষিকী
তোমাকে বড় বেশি মনে পড়ছে
তোমার শেষ বাণী-আদর্শ ও একতা।
শব্দ দুটি এখন ভীষণ হাস্যকর লাগে
এ দেশে আদর্শ বলে কিছু নেই
একতা আছে শুধু মন্দ কাজে
আজ জাতিতে জাতিতে ধর্মে বর্ণে
 
শুধু দ্বন্দ্ব আর ধন্দ
যুদ্ধংদেহী মনোভাব সর্বত্র।
আমার ছেলেবেলায় যখন আরতি মাসী স্নান সেরে
নাক কুচকে পা টিপে টিপে সন্তর্পণে বাড়ি যেতেন
আমি দুষ্টুমি করে তখন মাসীকে ছুঁয়ে দিতাম
মাসী বলতেন, হায়! ভগবান। আমাকে অপবিত্র করে দিল!
 
মাসী আবার পবিত্র হতে স্নান করতেন
মুসলমানে ছুঁলে নাকি জাত যায়
সেই মাসীর মৃত্যুর সময় তার পাশে কেউ ছিল না
আমরাই মাসীর মুখে জল দিয়েছি মরার সময়
 
মাসী শুধু অঝোরে কেঁদেছেন নির্লিপ্ত নয়নে।
এদেশে এখনও কালো মেয়ে বাবা-মায়ের সংসারে বোঝা
বড়সড় কিছু যৌতুক না দিলে তাকে পার করা কষ্ট
দেশে শিক্ষার হার বাড়ছে ঠিকই
অথচ দেশটা দিনদিন মেধাশূন্য হয়ে পড়ছে
পরীক্ষার আগের রাতেই প্রশ্ন ফাঁস হয়ে যায়
এদেশে ঘুষ না দিলে চাকরি পাওয়া দায়।
ছকিনার স্বামী গত হয়েছে দু'বছর হলো
দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে বড় অসহায়!
হাড়িতে চালের বদলে জ্বাল দেয় জল
উনুনের ধোঁয়া দেখে কান্নারত ক্ষুধার্থ বাচ্চারা
দু'মুঠো খাবারের আশায় ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকে
কঙ্কালসার দেহের কোটর থেকে চোখ মেলে
করিমের বউ খেয়ে দেয়ে শখের শরীর 
ডাস্টবিনের ফেলে দেয় বাড়তি খাবার
স্বামী তার সরকারি আমলা গামলা পেতে নেয় ঘুষ
 
কেউ খেতে পাচ্ছে না আর কেউ ফেলে দিচ্ছে
মাস্টারদা, কোথাও কোন সমতা নেই
কোন মানবতা নেই
রাজনীতি এখন ধ্বংসযজ্ঞের সমার্থক
কিছু নেতা-নেত্রীর কাছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এই দেশ
যে যেমন পারছে লুটে পুটে খাচ্ছে একাত্তরের মত।
মাস্টারদা, তোমাকে বলছি-
তোমার মৃত্যুর আগে লেখা তোমার শেষ চিঠির বাণীগুলো
বুকের নিভৃতে আজও পুষে রাখি
তোমার স্বাধীনতার স্বপ্ন আজ ভুলুণ্ঠিত
আমরা এখনও তোমার মত বিদ্রোহী হয়ে উঠতে পারিনি
আজও আমরা স্বাধীনতার শত্রুদের নিশ্চিহৃ করতে পারিনি
আজও আমরা জ্বলে উঠতে পারিনি অধিকারের দাবীতে
এখনই সময় সবকিছুর তুমুল প্রতিশোধ নেওয়ার
আজ আমি বিদ্রোহের ডাক দিয়ে যাবো
সমস্ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে দারুণ প্রতিবাদের ঝড় তুলে
আজ আমার 'আমিকেই' জেগে উঠতে হবে
আমিই করে যাবো নষ্টামির প্রতিবাদ
আমিই করে যাবে অধিকারের দাবীতে মিছিল
আজ যদি আমার অধিকার আমি প্রতিষ্ঠা করতে না পারি
তবে আমার অনাগত সন্তানেরা করবে
বিপ্লবের শুরু হোক নিজের থেকেই
প্রতিবাদের অগ্নিশিখা দাউ দাউ করে জ্বলে উঠুক 
আমি থেকে আমাদের সবার মনে
এসো সবাই দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হই
কাঁধে কাঁধ রেখে আর একটা যুদ্ধের দামামা বাজাই
মাস্টারদা সূর্যসেনের মত মুক্তির জন্য
আর একবার গর্জে ওঠো ব্যাপক বিপ্লবী-
 
'বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক'
ফিরে আসুক প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব বিপ্লব!
তারিখঃ ১২-০১-২০১৫ খ্রি.


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাশিয়ার কবিতা

তোমার জন্য রজনীগন্ধা দিন

জার্মানির কবিতা